Breaking News
Home | সংবাদ | ব্যাংক খাত পুরোটাই চলছে ধারের উপর |সংবাদ

ব্যাংক খাত পুরোটাই চলছে ধারের উপর |সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আমানত না আসায় গত দুই বছরে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ ধার করে গ্রাহকদের ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এতদিন এই ব্যাংকগুলোয় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ছিল, যা দিয়ে ব্যাংকগুলো দৈনন্দিন কাজে ব্যয় করার পরও মুদ্রাবাজারে টাকা ধার দিয়ে আয় করতে পারতো। কিন্তু এখন উল্টো ধার করে চলছে। বিষয়টি উঠে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদের এক চিঠিতে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে দেওয়া ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বেঁধে দেওয়া সুদহার কার্যকর করতে গিয়ে জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৬১২ কোটি টাকার আমানত হ্রাস পেয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মানি মার্কেট থেকে কললোন ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) ও রেপোর মাধ্যমে কর্জ (ধার) করে প্রয়োজনীয় সিআরআর সংরক্ষণ করতে হচ্ছে জনতা ব্যাংককে। শুধু জনতা নয়, চরম খারাপ অবস্থায় আছে রাষ্ট্রায়ত্ত সব ক’টি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোকে মূলধন জোগান দিয়েও অবস্থার উন্নতি ঘটানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি ব্যাংক এখন ধার করে (ঋণ করে) চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) জমা রাখতে পারছে না। দশটি ব্যাংক তাদের মূলধনও ভেঙে খাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (২৪ মাসে) ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে ব্যাংকগুলোতে আমানত এসেছে মাত্র ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। ফলে এই দুই বছরে ব্যাংকগুলোকে ৭৭ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা ধার করতে হয়েছে।
এদিকে গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় খেলাপির ঝুঁকিতে পড়ছে ঋণ করে (ধার করে) চলা ব্যাংকগুলো। এমন দূরবস্থার মধ্যে বিপজ্জনক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ঋণ খেলাপি হয়েছে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ২৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৫৮ ভাগ।
বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ ভাগ। বিশেষায়িত দুই ব্যাংক ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে, যা বিতরণ ঋণের ২১ ভাগ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গত জুন পর্যন্ত ৮৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে ব্যাংকগুলো। অবশ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২২ নভেম্বর পর্যন্ত আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এছাড়া ঋণ পুনর্গঠন হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ অবলোপন আছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণ প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে যতদিন সুশাসন আসবে না, ততদিন খেলাপি বাড়তেই থাকবে।’ এক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে দেখা যাচ্ছে, দুই বছরে ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৭৭ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ ঋণ বা ধার করেছে ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই বছরে (২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। যদিও এ সময়ে আমানত এসেছে মাত্র ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে আমানত ছিল ৮ লাখ ৯৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে আমানত ছিল ৮ লাখ ১২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৯ লাখ ১৭ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। আর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ঋণ বিতরণ করেছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)এ সংক্রান্ত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ পর্যন্ত আট বছরের মধ্যে ৭ বছরই পুনঃমূলধনের নামে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা, যা ক্রমবর্ধমান রাজস্ব আয়ের ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ যোগ করা হলে খেলাপি ঋণ দাঁড়াবে এক লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩ ব্যাংক। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। যার সিংহভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের।
পিবিডি/আরিফ সুত্র: http://www.pbd.news/finance-trade/83291

About admin

Check Also

ঝালকাঠিতে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ী ভাঙচুর, মারধর |শীর্ষ নিউজ

শীর্ষ নিউজ, ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে বিএনপি প্রর্থীর গাড়ি ভাংচুর এবং কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতীবার সকালে শহরের কলেজ রোডে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামেন এ ঘটনা ঘটে। ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী জীবা আমিনা খান অভিযোগ করেন, আজ সকালে শহরের কলেজ রোডে তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের সামেন রাখা চারটি গাড়ি ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ বিষয়ে জে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *