Breaking News
Home | সংবাদ | আওয়ালীগ ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প বেছে নেওয়ার অবকাশ নেই ভারতের

আওয়ালীগ ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প বেছে নেওয়ার অবকাশ নেই ভারতের

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে বিগত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তথা সার্বিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে তা নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই বলে মনে করা হয়। তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় যে জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই আমলের তুলনায় এই অর্জন কতটা কম বা বেশি, প্রতিবেশী ভারতের অন্তত তিনজন নামী গবেষক ও পর্যবেক্ষক এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় একবাক্যে বলছেন, বিএনপি আমলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থনৈতিক অর্জন কোনও তুলনাতেই আসবে না। এমনকী তারা এ কথাও বলেছেন, প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা যদি উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি হয় তাহলে আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটারদের আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প বেছে নেওয়ারও অবকাশ নেই।

নিয়মিত বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহে নজর রাখা এই তিন পর্যবেক্ষকের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে বহুবার শেখ হাসিনা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। গত নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তারা পর্যন্ত লিখেছে, ‘আওয়ামী লীগের শাসনে অর্থনীতির অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

গত বছর বাংলাদেশের জিডিপি সম্প্রসারিত হয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে, যা ভারত বা পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি।’ ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ আরও লেখে, ‘জনমত জরিপগুলোও বলছে মানুষ সার্বিকভাবে সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট। সামরিক অভ্যুত্থানের কোনও আশঙ্কা নেই বললেই চলে। এবং তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারতও প্রচ্ছন্নভাবে আওয়ামী লীগকেই সমর্থন করছে।’
দ্য ইকোনমিস্টের এই পর্যবেক্ষণ থেকে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, ব্যাপক ও বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকারকে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু বিএনপি জামানার চেয়ে সেই কাজের ধারা কোথায় আর কীভাবে আলাদা- এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দিল্লির নানা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিংকট্যাঙ্কে যুক্ত তিনজন নামী নারী পর্যবেক্ষক।

বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ড. শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বহু বছর ধরে আমার বাংলাদেশে যাতায়াত, এখন যেন দেখছি অনেক অনেক দিন পর সে দেশে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। গত দশ বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার সেখানে ৭ শতাংশের ওপর, এটা তো এক সাঙ্ঘাতিক অর্জন!’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমলে একটা বিরাট সমস্যা ছিল বিদ্যুতের সঙ্কট।

সাধারণ মানুষ তো নাকাল ছিলেনই, বিদ্যুতের অভাবে ধুঁকছিল দেশের শিল্প, বিশেষত তৈরি পোশাক খাত। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই সেদিকে নজর দিয়েছিলেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনার চুক্তি করে এবং আরও নানা পদক্ষেপ নিয়ে সেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি ঘটিয়েছেন তিনি।
ড. শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আর দারুণ সব কাজকর্ম হচ্ছে সে দেশের অবকাঠামো খাতেও। শুধু পদ্মা সেতুই নয়, রাস্তাঘাট-রেল অবকাঠামো থেকে শুরু করে আরও নানা দিকে যেভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, কিংবা ঢাকার মতো শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, তাতে যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি তার সুফল পাবে সাধারণ মানুষও।

এই গবেষক আরও বলেন, বিএনপি আমলে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনগুলোতে (ইপিজেড) নানা সমস্যা লেগেই ছিল। এখন কিন্তু শিল্প পরিস্থিতি অনেক ভালো, অনেক নিয়ন্ত্রণে। শেখ হাসিনা সরকার চীন ও ভারতের জন্য আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করে ইপিজেড তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে শ্রীরাধা দত্ত বিশ্বাস করেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ একটা কৃষিনির্ভর (অ্যাগ্রেভিয়ান) অর্থনীতির দেশ থেকে অনেক ‘আপগ্রেডেড’ (উন্নীত) হয়েছে, আর সেই কৃতিত্ব শেখ হাসিনার সরকারকে না দিয়ে কোনও উপায় নেই!

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনসের (ইকরিয়ের) অধ্যাপক ড. অর্পিতা মুখার্জি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যে একটা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নকে কতটা সাহায্য করে আমি বলবো, বাংলাদেশে গত দশ বছরের আওয়ামী লীগ শাসন তার একটা ক্লাসিক দৃষ্টান্ত। যে দেশটা হরতাল-বন্ধ-রাজনৈতিক সংঘাতের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল মাত্র এক দশক আগেও, সেখানে এখন অর্থনীতির চাকা এগোচ্ছে জোর কদমে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে খুব কাছ থেকে দেখি এবং আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই, তারা সেখানে ভারতের চেয়েও অনেক ভালো করছে। বহু বছর ধরে একটা জায়গায় আটকে থাকার পর তারা এখন জোর দিয়েছে গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর, আর সেখানে সরকার ওই শিল্পকে ভীষণভাবে সাহায্য করছে।

About admin

Check Also

সংঘাত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হতে পারে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত |শীর্ষ নিউজ

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, সংঘাত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হতে পারে না। তাই নির্বাচনি সহিংসতা চায় না যুক্তরাষ্ট্র। আমরা সংঘাতহীন নির্বাচন দেখতে চাই। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই স্বার্থে নির্বাচনি সহিংসতা এড়ানো উচিত সব পক্ষের। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব পক্ষকেই নির্বাচনি সহিংসতা এড়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *