Home | ইসলাম | নবীজী সা. এর এর পছন্দনীয় কিছু আমল

নবীজী সা. এর এর পছন্দনীয় কিছু আমল

নবীজী সা. এর এর পছন্দনীয় কিছু আমল
ইসলাম ডেস্ক: মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আমি জীন ও মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদতের জন্য।’করেছেন। যে ইবাদতগুলো তিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এবং হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর ভাষায় তাদের ওপর ফরজ করেছেন।

মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ যেসব কথা, কাজ, প্রকাশ্য ও গোপন আমলসমূহ পছন্দ করেন ও যার ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সে সবই হচ্ছে ইবাদত। নবী করীম (সা.) সেসব বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি আমলকারী ছিলেন এবং সেগুলো অতি ভালোবাসতেন। কাজেই রাসূল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে যেসব ইবাদতের কথা এসেছে তা সবই মহান আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করতেন। যেমন, নির্ধারিত সময়ে ফরজ নামাজসমূহ আদায় করা, সৎ কাজের আদশে করা, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা, জামাতে সালাত আদায় করা, রাতের তাহাজ্জুদের সালাত ইত্যাদি। এছাড়াও অন্যান্য সব ইবাদত।

মহান আল্লাহ তায়ালা যেসব ইবাদত শরীয়তের দ্বারা বিধিবদ্ধ করেছেন নবী কারীম (সা.) সবই পছন্দ করতেন। সেটা হাদীসে বর্ণিত হোক বা না হোক। এ ছাড়াও হাদিসে নবী কারীম (সা.) এর কিছু নির্দিষ্ট পছন্দের ইবাদতের কথা উল্লিখিত হয়েছে। এ কারণে এ আলোচনায় এমন কিছু ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হবে যাতে নবী করীম (সা.) এর ভালোবাসার কথা হাদিসের মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
নিচে হাদিসের উদ্ধৃতি থেকে নবী কারীম (সা.) এর পছন্দনীয় কিছু বিষয়ে তালিকা দেওয়া হলো,
(১) রাসূলুল্লাহ (সা.) খাঁটি ঈমান পছন্দ করতেন। নবী কারীম (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নিকট ঈমানকে পছন্দনীয় করে দাও এবং আমাদের অন্তরে এটাকে সুশোভিত করে দাও। (মুসনাদে আহমদ)

(২) নবী কারীম (সা.) সঠিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ভালোবাসতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কী মনে কর, যদি কারোর বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে কী? তারা বললো, না! নবীজী (সা.) বলেন, এটি হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উপমা। এ সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার ভুলসমূহ মুছে দেন। (মুসলিম:কিতাবুল মাসাজিদ)

(৩) নবী কারীম (সা.) যোহরের পূর্বে নিয়মতি চার রাকাত সালাত পড়তে পছন্দ করতেন। ‘কাবুস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘আমার পিতা আয়েশা (রা.) এর কাছে একজন মহিলার মাধ্যমে জানতে চাইলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) নিয়মিত কোন নামাজ পড়তে পছন্দ করতেন? আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি যোহরের পূর্বে নিয়মিত চার রাকাআত নামাজ পড়া পছন্দ করতেন। যাতে তিনি লম্বা সময় কিয়াম করতেন, রুকু ও সিজদা করতেন অনেক সুন্দর করে। (মুসনাদে আহমদ)

(৪) নবী কারীম (সা.) পছন্দ করতেন যেন তার পেছনে বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা দাঁড়ান। ‘রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও পূর্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন তারা আমার পেছনে দাঁড়াবে। অতপর তার পরে যাদের অবস্থান তারা তারপরে দাঁড়াবে। তোমরা মতবিরোধ করো না। তাহলে তোমাদের অন্তর বিভিন্ন রকম হয়ে যাবে। তোমরা বাজারের ফেতনা থেকে বেঁচে থাকো।’ (আউনুল মা’বুদ)

(৫) নবী (সা.) ঈদের সালাত বিলম্বে পড়া পছন্দ করতেন। ‘আবু বারযা আসলাম থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) এশার নামাজ (যাকে তোমরা আতামা বলে থাকো) বিলম্ব করে পড়াকে পছন্দ করতেন। (রাজে মুসলিমের শরাহ)

(৬) নবী কারীম (সা.) উম্মতের জন্য সহজতা পছন্দ করতেন। আয়েশরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি রাসূল (সা.) নিয়মিত দুই রাকাত নামাজ পড়তেন, কিন্তু তিনি কখনোই মসজিদে এ নামাজ পড়তেন না। এ ভয়ে যে এটা তার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে। আর তিনি পছন্দ করতেন উম্মতের জন্য সবকিছু সহজ করতে। (বুখারি: কিতাবু মাওয়াকিতিস সালাত)  সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

About admin

Check Also

সালাতে একাগ্রতা অর্জনের উপায়

সালাতে একাগ্রতা অর্জনের উপায় ইসলামিক ডেস্ক : ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হ’ল সালাত। সর্বাবস্থায় আল্লাহর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *