Home | সংবাদ | আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে ইবি প্রক্টরের কারসাজি, ভিডিও ভাইরাল

আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করতে ইবি প্রক্টরের কারসাজি, ভিডিও ভাইরাল

ইসলামী বিশ্ববিদলয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের গোপনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ছবি তোলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের গোপনে ছবি তুলতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি। 

গত বুধবার আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীদের গোপনে ছবি তোলেন প্রক্টর। তার এই গোপনে ছবি তোলার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।  ভিডিওটি ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ফোনের ফ্লাশ লাইট চালু থাকায় তিনি যে বারবার ক্লিক ছবি তুলছেন সেটি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। 

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচলামূলক মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বুধবার কোটা প্রথা সংস্কার দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। বেলা ১১টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।  এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরিয়াল বডি বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হন। পরে বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আবরোধ প্রত্যাহার করতে চাপ দিতে থাকেন। এসময় আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীরা তার কথা না শোনায় এক পর্যায়ে প্রক্টর পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করেন। এদিক ওদিক তাকিয়ে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্র্থীদের দিকে কয়েকবার ক্যামেরা ক্লিক করেন। পরে তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য ফোনটি কানে ধরেন। 

প্রক্টরের চালাকির ঘটনাটি আন্দোলনকারীদের করা ভিডিওতে ধরা পড়ে। তার ফোনের ফ্লাশ চালু থাকায় প্রতিটি ক্লিক বোঝা যাচ্ছিল। ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, ৪৫ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত তিনি ৬টি ছবি তুলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, ‘প্রশাসন ও ছাত্রলীগ বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তবে প্রক্টর যে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন সেটি অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের শিক্ষার্থীদের সাথে এভাবে প্রতারণা করা উনার উচিত হয়নি।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় শাপলা ফোরামের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকারী নেতাদের সনাক্ত করতে ছবি তোলা মোটেও ভাল কাজ নয়। প্রক্টর বরাবরই দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেন। শিক্ষার্থীদের সাথেও এমন করবেন সেটা ভাবতেও শিক্ষক হিসেবে আমার লজ্জা লাগছে।’

ছবি তোলার বিষেয়ে প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে যে পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন সেটা করা হয়েছে।’

About admin

Check Also

উল্টো যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পা থেঁতলে দিল মন্ত্রণালয়ের বাস!

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে পা থেঁতলে দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার বলছে, দেলোয়ারের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। তার জীবন বাঁচানোটাই এখন মুখ্য বিষয়। দেশের বাইরে নিয়ে তার উন্নত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *