Home | সংবাদ | বাঁধ মেরামতে মাটির বদলে বালি

বাঁধ মেরামতে মাটির বদলে বালি

মৌলভীবাজারে কুলাউড়া,  রাজনগর ও সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান খরস্রোতা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে শুধু মাত্র বালু দিয়ে! সোয়া তিন কোটি টাকার প্রকল্পটি বালির বাঁধের মতই পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা মনু তীরের বাসিন্দাদের।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মনু নদীর প্রতিরক্ষা ৮ স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এসব ভাঙ্গকৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩২টি স্পটে চলছে মেরামত কাজ। মেরামত কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম আর হরিলুট। মাটির বদলে বালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে নিম্নমানের বাঁশ আর চাটাই দিয়ে নামমাত্র কাজ।

স্থানীয়রা দাবী করেন, এ কাজ কোন উপকারে আসবে না তাদের। নামমাত্র কাজ করানোর চেয়ে না করানোই ভালো ছিলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মনু নদীর কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৩২ টি স্পট ঝুঁকির্পূন অবস্থায় রয়েছে। স্পটগুলো মেরামত করার জন্য ৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু নামমাত্র মেরামত কাজ করে লুটপাটেই ব্যস্ত ছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিস্তপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত বছর কয়েকদফা নদী ভাঙনে নিশ্চিন্তপুর এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধের  অনুমানিক ২শ’ ফুট এলাকা ভেঙে যায়। বিলীন হয়ে যায় আশপাশের ২০-২৫ টি বাড়ী। চলতি মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনকৃত এলাকায় মেরামত কাজ শুরু করে। কাজে চলে ব্যাপক অনিয়ম। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মাঠির পরিবর্তে নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু দিয়ে তৈরি করেছে প্রতিরক্ষা বাঁধটি!

কাজ হতে না হতেই ধ্বসে পড়ছে বাঁধটি। এছাড়াও ঠিকাদারের লোকজন নামকাওয়াস্তে নিম্নমানের বাঁশ আর চাটাই দিয়ে কাজ শেষ করেছে। প্রতিরক্ষা বাঁধে মাত্র ৪-৬ ফুট বাঁশ কুপা হচ্ছে অথচ এখানে কাঁদার গভীরতা ১৫-২০ ফুট। বাঁশগুলো ফাঁকা করে পুঁতে নামমাত্র কাজ করছে। এভাবে কাজ সম্পাদন করলে সামান্য পানির ¯্রােতে সবকিছুু ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। একই চিত্র অন্যান্য স্পটগুলোতেই।

স্থানীয় বাসিন্দা জসীম উল্লাহ, মনোয়ারা বেগম, তসলিম আলী, ইনাম উল্লাহ ও রবিউল হাসান সাহেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান – ‘গত বছর নদী ভাঙনে আমদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন নদীতে যে কাজ করা হয়েছে তা করার চেয়ে না করাই ভালো ছিলো। নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধ্বসে পড়ছে বাঁধটি। আগামী বর্ষা মৌসুমে আমাদের কোন পরিনতি হবে তা বুঝতে পারছি না’।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বী জানান- ‘স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি।

কাজে অনিয়মের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান- ‘শরীফপুরের নিশ্চিন্তপুরে প্রতিরক্ষা বাঁধে অনিয়মের কথা জেনেছি। অফিসের লোকজন সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনে গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত বালি সরিয়ে মাঠি দিয়ে সুষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য চিঠি দিয়েছি’।

ওএফ

About admin

Check Also

উল্টো যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পা থেঁতলে দিল মন্ত্রণালয়ের বাস!

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে পা থেঁতলে দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার বলছে, দেলোয়ারের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। তার জীবন বাঁচানোটাই এখন মুখ্য বিষয়। দেশের বাইরে নিয়ে তার উন্নত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *