Home | সংবাদ | ‘আন্দোলন দমানোর জন্য সরকার অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে’

‘আন্দোলন দমানোর জন্য সরকার অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যত না কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল সমস্যাটি সমাধানের দিক নির্দেশনা এসেছে তার চেয়ে বেশি এসেছে ক্ষোভ প্রকাশ, বিরক্তি ও হুমকি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কূটচাল রয়েছে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।’ ’তিনি আন্দোলনকারীদের দাবিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। সরকার মুক্তমন নিয়ে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কারের দাবিকে আমলে নেননি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা কয়েকদিনের আন্দোলনে রাজপথ স্থবির হয়ে পড়ার পর বুধবার(১১এপ্রিল)জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্য কোটা থাকারই দরকার নেই বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংস্কার করতে গেলে, কয়দিন পর আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই হবে সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিও দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরদিন দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলেছেন।’

‘প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিলেন সেটি বাস্তবায়িত হলে এর বিরুদ্ধে যে কেউ রিট করলে তা বাতিল হয়ে যাবে। কারণ সংবিধানে এ বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু কোটার যে বিষয়গুলো বিধানে নেই, সেগুলো সংবিধান সংশোধন ছাড়াই সরকার সংস্কার করে তা কমিয়ে আনতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে রিজভী বলেন, ‘সংবিধানে অনগ্রসর জাতি গোষ্ঠীকে কোটা দেয়ার বিধান সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ‘আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীরা বারবার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কোটার বিরোধিতা করেনি।’

রিজভী বলেন, ‘এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং রাতেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলাও হয়েছে। তাহলে স্পষ্টতঃই বোঝা যায়- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পরে আন্দোলনকারীদের ওপর এই হামলা ও মামলায় অশান্তি বাড়বে, কমবে না।’

‘আসলে আওয়ামী লীগের সব কাজই প্রকৃতপক্ষে এক ছল। প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবারও শপথ ভঙ্গ করলেন।’

বুধবার সুরের ধারার ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ ‘প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগে আমাদের আপত্তি নেই, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-ঢাকাসহ সারাদেশ যখন আন্দোলনে উত্তাল, যখন রাজধানী স্থবির হয়ে পড়েছে, যখন সরকারি বাহিনীর গুলিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, তখন সুরের ধারা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গানের সুরে তাল মেলাচ্ছেন।’

বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

/এজেড

About admin

Check Also

‌‘আবেদন করলেও পাসপোর্ট পাবেন না তারেক’

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান বলেছেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *