Home | সংবাদ | বাংলাদেশ এখন পাতাল থেকে আসমানে উঠেছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন পাতাল থেকে আসমানে উঠেছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। আগে বিশ্বের যেকোনো স্থানে গেলে শুধু বদনাম শুনতে হয়েছে যে, বাংলাদেশ একটি গরীব দেশ। শুধু সাহায্য চায়। এখন আর বাংলাদেশ সে অবস্থানে নেই। বাংলাদেশ এখন পাতাল থেকে আসমানে উঠেছে। আগে নিচে ছিলাম, এখন ওপরে উঠেছি এবং আরো উঠব’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব গাজী শফিকুল আজম প্রমুখ। এসময় তিনি ঘোষণা দেন ‘আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত সরকারের সব দর থেকে জনগণকে যেকোনো একটি সেবা ফ্রি দেওয়া হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণে প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নামমাত্র সুদে যে অর্থ আমরা নিই, তা বোধ হয় আর পাওয়া যাবে না। এই ব্যাপারে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছয় বছর পর্যবেক্ষণের পর ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। ২০২৭ সালের পর স্বল্পোন্নত দেশের সুযোগ সুবিধা বন্ধ হলে নতুন নতুন সুবিধার জন্য আরও দরজা খোলা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি (স্বল্পোন্নত) থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় ২০ তারিখ থেকে উৎসব শুরু হয়েছে। এই উৎসব চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী এই অর্জনের রূপকার। আগামী ২২ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। ওইদিন দুপুরের পর থেকে রাজধানীর ৯টি অঞ্চল থেকে জনগণ র্যালি নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জমায়েত হবে বিকেল ৩টার মধ্যে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।’

ব্যসায়ীরা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না: মুহিতঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ীরা বিনা পয়সায়, বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। তারা কোনো কর দিতে চান না। বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। সেটাই তারা করতে চান। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না।’রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই এ সমস্যা আছে। নিজের পকেট থেকে কোনো ব্যবসায়ী পয়সা দিতে চান না। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের লোভটা একটু বেশি। তাঁরা প্রায় বিনা মাশুলে ব্যবসা করতে চান।’বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আরো বেশি করে দেওয়ার মানসিকতা দেখানোর জন্য আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিজের পকেট থেকে পয়সা পৃথিবীতে কেউ দিতে চায় না। এই আমাদের দেশে একটু বেশি। লোভটা অত্যন্ত বেশি। কারণ নেতারা সবই বিনা পয়সায় ব্যবসা করেন। বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। সেটাই তারা করতে চান। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না।’

অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত হলেও এফবিসিসিআইয়ের পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ীরাও বলছেন যে এর বাস্তবায়ন আসলে শুরু হয়ে গেছে এবং নতুন ভ্যাট আইন বলতে আর কিছু হবে না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাট আইন তো আছেই। ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের পাশাপাশি ২০১১ সালে নতুন ভ্যাট আইনের খসড়া হলো। কিছু ক্ষেত্রে আমরা আগে যেটা ৩ থেকে ৪ শতাংশ ভ্যাট হার ছিল, সেগুলো ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ করে ফেলেছি।’চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। বছর শেষে বাজেটের শতকরা ৯৩ ভাগ বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।মুহিত বলেন, ‘চলতি বছরে বাস্তবায়ন তো খুব ভালো। কারণ রেভিনিউটি চিরদিন বেশি হয়, খরচ হয়। সব প্রবলেম এডিপিতে। এবার এডিপির বাস্তবায়ন প্রথম ছয় মাসে বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এটা তো দারুণ ভালো। পারফরম্যান্ট খুবই ভালো।’বিসিএস কাস্টমস ও বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা তাদের পেশাগত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করেন। এই দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রথম গ্রেডে পদায়ন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সব পদে তাদের ক্যাডার থেকে পদায়নের দাবি অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী তাদের এসব দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে তা বিবেচনার আশ্বাস দেন।

About admin

Check Also

উল্টো যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার পা থেঁতলে দিল মন্ত্রণালয়ের বাস!

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে পা থেঁতলে দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার বলছে, দেলোয়ারের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। তার জীবন বাঁচানোটাই এখন মুখ্য বিষয়। দেশের বাইরে নিয়ে তার উন্নত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *