Home | দিগন্ত | তারেক রহমানের সাথে কথা বলায় অধ্যাপক মামুনকে গ্রেপ্তারের দাবি হাছান মাহমুদের

তারেক রহমানের সাথে কথা বলায় অধ্যাপক মামুনকে গ্রেপ্তারের দাবি হাছান মাহমুদের

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক স্মরণ সভায় বক্ততৃাকালে তিনি এ দাবি জানান।

জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদের ২১তম ও মোহাম্মদ আবদুল হকের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মামুন আহমেদদের গ্রেপ্তার করা হলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে কারা হামলা চালিয়েছে সেই তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে কথোপকথনে তারেক রহমান কীভাবে কোটা আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়, কীভাবে এই আন্দোলনে একটু বাতাস দেওয়া যায়— সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। সম্ভবত তারেক রহমান নির্দেশ দেওয়ার পরই ভিসির বাসভবনে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ঢাবি ভিসি কোটা পদ্ধতি সংরক্ষণ কিংবা বাতিল কোনোটার মধ্যেই নেই। তাহলে কেন তার বাসভবনে হামলা চালানো হল? শিক্ষকদের একটি অংশ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’

‘কোটা বাতিলে সরকারের পরাজয় হয়েছে’— বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘মওদুদ আহমদসহ বিএনপি নেতারা কোটা অন্দোলনকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিলেন। তারা দেশের মাটি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বিএনপির সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের পরাজয় নয়, বরং জয় হয়েছে। আর বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, “আন্দোলনকারীরা আমাদেরই সন্তান। তারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে কোটা বাতিলের আন্দোলন করেছেন। সেখানে বিএনপি তাদের পেট্রোল বোমা বাহিনী ও সন্ত্রাসী বাহিনী ঢুকিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় তাদের সেই প্রচেষ্টাও ভেস্তে গেছে।”

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘কোটা বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই ছিল। কোটা সংস্কারও সব সময় হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই।’
বিএনপিকে ‘পরগাছা দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সময় অন্যদের আন্দোলনে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। তেল, গ্যাস রক্ষা কমিটির আন্দোলনে শরিক হয়েও তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তারা নিজেরাও বহু আন্দোলন করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। খালেদা জিয়া তার নেতাদের বিশ্বাস করেন না। আর বিএনপি নেতাদের তাদের কর্মীরাও বিশ্বাস করেন না। এ কারণে বিএনপির ডাকে কেউ সাড়া দেয় না। তাই অন্যরা কিছু করলে সেখানে খড়কুঁটোর মত আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।’

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন হাছান মাহমুদ।
জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন এইচ এন আশিকুর রহমান, রেহানা আশিকুর রহমান, সাদেক সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, শেখ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

কোটা সংরক্ষণের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের বিক্ষোভ
সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা।

বৃহস্পতিবারও তারা এই দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দিনাজপুরে কোটা সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। এ ছাড়া বরিশাল, লালমনিরহাটে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে সব ধরণের কোটা না রাখার ঘোষণা দেন। এরপর অনেক স্থানেই কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
বরিশাল: সকাল ১০টায় নগরীর সদর রোডে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন মুক্তিযোদ্ধারা। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন হয়। একই দাবিতে বানারীপাড়াসহ বরিশালের ১০ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়।
দিনাজপুর: আগামী দু’দিনের মধ্যে কোটা পদ্ধতি আবার বহাল করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ না করা হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দিনাজপুরের মুক্তিযোদ্ধারা। দুপুরে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দাবি না মানা হলে তারা রোববারের পর দিনাজপুর শহরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ারও ঘোষণা দেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

লালমনিরহাট: জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ গেটে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড। পরে হাতীবান্ধার ইউএনও আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ: জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদর উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক মাহদুল কবীর মুরাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ): দুপুরে পৌরশহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হকের পরিচালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খবরটি শেয়ার করুনClick to share on Facebook (Opens in new window)Click to share on Twitter (Opens in new window)Click to share on Tumblr (Opens in new window)MoreClick to share on Pocket (Opens in new window)Click to share on Telegram (Opens in new window)Share on Skype (Opens in new window)

Related

About admin

Check Also

‘আমি ভয় পাই না, তবে আমার কিছু হলে প্রভোস্ট স্যার দায়ী!’

আমি চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী, যে আন্দোলনে ইতোমধ্যে আমাদের সকল সম্মানিত শিক্ষক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *