Home | দিগন্ত | ‘আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলিনি’

‘আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলিনি’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলিনি। আমি স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের ‘রাজাকারের

বাচ্চা’ বলেছি যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এখনো চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারপরও আমার পুরো বক্তব্য না শুনে কোনো শিক্ষার্থী যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, সেজন্য আমি দুঃখিত।’ বুধবার (১১ এপ্রিল)

দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আলাপচারিতায় শুরুতেই তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি সংসদেই এই বক্তব্য রেখেছি, বুধবার সংসদেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক
বক্তব্য রাখবো।’ মতিয়া চৌধুরী তাঁর পুরো বক্তব্যটি আবার ইউটিউব থেকে শুনিয়ে এই প্রতিবেদক বলেন, ‘দেখেন, আমি কি বলেছি। আমি মুখোশ পরে যারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করেছে তাদের ‘ইতর’

বলেছি। আমি বলেছি সাইদীর বিচারের পর সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এটা বলে যারা তাণ্ডব চালিয়েছিল, তাদের সঙ্গে্ এই তাণ্ডবের সাদৃশ্য আছে। “যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা অবশ্যই ‘রাজাকারের
বাচ্চা’। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এরা সব সময়ই ষড়যন্ত্র করেছে।’ বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘আমি খুশি হতাম যদি শিক্ষার্থীরা আমার পুরো বক্তব্য শুনতো। কিন্তু ওই ‘রাজাকারের বাচ্চারাই’ আমার

বক্তৃতা খন্ডিত করে প্রচার করছে। আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেছি, সেটাও অন্য কথা।” বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, এটা শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এর পেছনে বিএনপি-জামাতের মদদ আছে। ‘রাজাকারের বাচ্চারা’ এই আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে।’ সংসদে দেওয়া মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য পুরো তুলে দেওয়া হলো: সাঈদীকে চাঁদে নিয়ে গিয়ে যারা দেশে অরাজকতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আঘাত করতে চায় তাদের ধিক্কার জানাই, এদের কোনো ক্ষমা নেই, এদের ক্ষমা করা যাবে না। হয় এরা এ দেশে থাকবে, না হয় আমরা থাকব। এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার।

এটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা কলঙ্কজনক ইতিহাস। প্রতিবাদ করতে মুখোশ কেন পরতে হবে? মুখোশ কারা পরে? যারা ভণ্ড, প্রতারক তারাই মুখোশ পরে। সাহস থাকলে মুখটা দেখাও। ইতর হওয়ার একটা সীমা

আছে। অভাবে অনটনে থেকে গ্রামের স্কুলে যে ছাত্রটি পড়াশুনা করে তার গ্রুমিং আর ঢাকা শহরের নামিদামি স্কুলে যে পড়াশুনা করে তার গ্রুমিং এক হবে না। সে আবছায়ায় আছে তাকে আলোতে আনতে
অবশ্যই বিশেষ সুবিধা দিতে হবে, এটাই দেশের শাসনতন্ত্রে রয়েছে। মূল গাত্রদাহ মুক্তিযোদ্ধা কোটা। পৃথিবীর দেশে দেশে যারা স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রাখে তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে।

এদের দাবি রাজাকারের সন্তানদের জন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা সংকুচিত করা। পরিষ্কার বলতে চাই মুক্তিযুদ্ধ করেছি, মুক্তিযুদ্ধ চলছে- মুক্তিযুদ্ধ চলবে এবং রাজাকারের বংশধরদের অবশ্যই আমরা দেখে
নেব। তবে ছাত্রদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো রাগ নেই। কারণ ফেইসবুকে যারা স্ট্যাটাস দিয়েছে এরা তো ছাত্র না, এরা মতলববাজ, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট। এদের সম্পর্কে সামান্যতম

শৈথিল্য আমরা দেখতে চাই না। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের নামে সাধারণ ছাত্রদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে গতকাল (রোববার) এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এরা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের উত্তরসূরি। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা কলঙ্কজনক ইতিহাস।

প্রতিবাদ করতে মুখোশ কেন পরতে হবে? মুখোশ কারা পরে? যারা ভণ্ড, প্রতারক তারাই মুখোশ পরে। সাহস থাকলে মুখটা দেখাও। ইতর হওয়ার একটা সীমা আছে।
খবরটি শেয়ার করুনClick to share on Facebook (Opens in new window)Click to share on Twitter (Opens in new window)Click to share on Tumblr (Opens in new window)MoreClick to share on Pocket (Opens in new window)Click to share on Telegram (Opens in new window)Share on Skype (Opens in new window)

Related

About admin

Check Also

‘আমি ভয় পাই না, তবে আমার কিছু হলে প্রভোস্ট স্যার দায়ী!’

আমি চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী, যে আন্দোলনে ইতোমধ্যে আমাদের সকল সম্মানিত শিক্ষক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *